প্রবাসে পুজো
--------------
পুজো আসছে।
কলকাতা থেকে অনেক দুরে বরোদা শহরে বসে বসে শুধু মাত্র কত গুলো বাংলা টেলিভিসন চ্যানেল দেখে দেখে মন ভরি। আজ থেকে দেড় বছর আগে আফ্রকার এক দেশ জাম্বিয়ার রাজধানী লুসাকা শহরে প্রত্যেক বছর ঠিক এই ভাবেই দূর্গা পুজোর অপেক্ষা করতাম। বহুবছর আফ্রিকাতে জীবন কাটিয়ে ইন্ডিয়াতে আমি সামাজিক আর ব্যাবসায়িক ক্ষেত্রে প্রায় নবাগত। অনেক কিছু আবার নতুন করে শিখতে হচ্ছে। মনে অনেক কৌতুহল, ভীতি আর উত্তেজনা। নতুন করে আবার অনেক কিছু করার বাসনা।
কিন্তু এই সমস্ত উত্তেজনা ছাপিয়ে পুজোর উত্তেজনা। আজ মনে পড়ছে জাম্বিয়ার লুসাকা শহরে পুজো নিয়ে আমরা খুব মেতে উঠতাম. পুজো আসবার প্রায় দুমাস আগে থাকতেই শুরু হত গান, আর নাটকের রিহার্সেল। পুজোর প্রত্যেক দিনেই আমরা সবাই মিলে কিছু না কিছু অনুষ্ঠান করতাম। এমনকি লুসাকা-তে আমরা ফ্যাশন শো-ও . করেছি। মিথ্যে কথা বলব না, রিহার্সেল শেষ হলে প্রায় প্রতিদিন-ই ভালো ভালো মজার খাবার এবং তার সঙ্গে পানীয়ের বন্দোবস্ত-টা একটা অতিরিক্ত আকর্ষণ ছিল. যেদিন যার বাড়িতে রিহার্সেল হত, তিনিই খাওয়া দাওয়ার ব্যবস্থা করতেন . কিন্তু বাকিরাও কিছু না কিছু একটা হাতে করে নিয়ে আসতেন। আমি যেহেতু একা থাকতাম, আমি বেশিরভাগ সময়েই আমার অনেক স্নেহভাজন-দের এবং অনেক শ্রধ্যেয়া বৌদিদের হাতের চমত্কার রান্না খাওয়ার সৌভাগ্য হয়েছে। সেইসব দিনগুলোর কথা মনে পড়লে নিজেকে ধন্য মনে করি এবং আমার লুসাকার সমস্ত বন্ধুদের আমি খুব মিস করি. বিশেষ করে এই পুজোর সময়.
পৃথিবীর অনেক জায়গায়, যেখানেই বাঙালিরা নিজেদের ডেরা বেঁধেছে, সেখানেই দূর্গা পুজো খুব ধুম ধাম করে করা হয়. এবং সব জায়গাতেই দেখবেন নাচ, গান এবং নাটকের বন্দোবস্ত করা হয়. কারা করে? কে সেই সব মানুষ, যারা অগ্রবর্তী হয়ে আমাদের সবাইকে একত্রিত করে একটা চমত্কার সময় আমাদের সবাইকে উপহার দেয়. প্রত্যেক জায়গাতেই দেখবেন কেউ না কেউ ঠিক একজন থাকেন, যারা আমাদের বাঙালিদের এই দূর্গা পুজোর পরম্পরাটাকে ধরে রাখার ব্যাপারে অগ্রগনি হয়েছেন । পৃথিবীর অন্য জায়গায় কারা আছেন জানি না, কিন্তু লুসাকাতে আছেন আমাদের দেবাশিষ-দা। দেবাশিষ ভট্টাচার্য। ওনাকে জিগ্গেস না করে একটা পাবলিক প্লাটফর্ম-এ ওনার নাম নিলাম. উনি নিশ্চই ক্ষমা করে দেবেন। কিন্তু লুসাকার দূর্গা পুজোর বিষয় আলোচনা করার সময় আমি যদি দেবাশিষ- দার কথা উল্লেখ না করি, তাহলেও অন্যায় হবে. .
দেবাশিষ-দা হচ্ছেন একটা লাইভ ওয়ার। যে কোনো একটা অনুষ্ঠান একা কাঁধে করে নামিয়ে দিতেন। উনি সবাই কে যার যার কাজ বুঝিয়ে দিতেন এবং অত্যন্ত সততার সঙ্গে বকাবকি করে কাজ গুলো যাতে হয় সেই ব্যবস্থা করতেন। উনি যে ভাবে কাজ ডেলিগেট করতেন, সেটা ছিল একটা শেখার মত ব্যাপার। এটা ছিল ওনার ম্যানেজারিয়াল ক্ষমতার দিকটা। এটা তো কিছুই নয়. গান এবং নাটকের চর্চা এবং নাটক লেখার যে অনবদ্য পারদর্শিতা উনি আমাদের দেখিয়েছেন, সেটা কেবল একজন খুব উঁচু দরের শিল্পীর কাছ থেকেই আশা করা যায়. কথায় , গল্পে, হাসি ঠাট্টায়, মজায় মস্করায়, দেবাশিষ-দা আমাদের সবাইকে মাতিয়ে রাখেন।
এই বছর পুজতেও নিশ্চই দেবাসিশ দা আবার মেতেছেন পুজো নিয়ে। আমার মত অনেকেই লুসাকাতে নেই. আবার অনেক নতুন নতুন মুখ-ও এসেছেন। সবাই আনন্দ করুন। অনেকেই নিশ্চই গান আর নাটক করছেন। আমি থাকলে আমিও নিশ্চই কিছু না কিছু করতাম। আমি ওখানে নেই. কলকাতাতেও নেই. তাই টিভি দেখছি।
সময়ের সঙ্গে মনের কোনায় জমে থাকা অনেক কিছুই মিলিয়ে যায়. কিন্তু দূর্গা পুজো আসার সঙ্গে সঙ্গে ফিরে আসে লুসাকার স্মৃতী। আর তার সঙ্গে মনে পরে আমার সমস্ত বাঙালি বন্ধুদের সঙ্গে কাটান সময় গুলোর কথা, বিশেষ করে দেবাশিষ দা আর ওনার সঙ্গে কাটানো পুজোর কয়েকটা দিন- নাচে গানে, আর নাটকে। থ্যান্ক ইউ দেবাশিষ দা. কতগুলো অসাধারণ আনন্দের মুহুর্তের জন্য। থ্যান্ক ইউ লুসাকা। থ্যাঙ্ক ইউ লুসাকার বাঙালি সমাজ। এই মিস ইউ অল এন্ড এই লাভ ইউ অল.
--------------
পুজো আসছে।
কলকাতা থেকে অনেক দুরে বরোদা শহরে বসে বসে শুধু মাত্র কত গুলো বাংলা টেলিভিসন চ্যানেল দেখে দেখে মন ভরি। আজ থেকে দেড় বছর আগে আফ্রকার এক দেশ জাম্বিয়ার রাজধানী লুসাকা শহরে প্রত্যেক বছর ঠিক এই ভাবেই দূর্গা পুজোর অপেক্ষা করতাম। বহুবছর আফ্রিকাতে জীবন কাটিয়ে ইন্ডিয়াতে আমি সামাজিক আর ব্যাবসায়িক ক্ষেত্রে প্রায় নবাগত। অনেক কিছু আবার নতুন করে শিখতে হচ্ছে। মনে অনেক কৌতুহল, ভীতি আর উত্তেজনা। নতুন করে আবার অনেক কিছু করার বাসনা।
কিন্তু এই সমস্ত উত্তেজনা ছাপিয়ে পুজোর উত্তেজনা। আজ মনে পড়ছে জাম্বিয়ার লুসাকা শহরে পুজো নিয়ে আমরা খুব মেতে উঠতাম. পুজো আসবার প্রায় দুমাস আগে থাকতেই শুরু হত গান, আর নাটকের রিহার্সেল। পুজোর প্রত্যেক দিনেই আমরা সবাই মিলে কিছু না কিছু অনুষ্ঠান করতাম। এমনকি লুসাকা-তে আমরা ফ্যাশন শো-ও . করেছি। মিথ্যে কথা বলব না, রিহার্সেল শেষ হলে প্রায় প্রতিদিন-ই ভালো ভালো মজার খাবার এবং তার সঙ্গে পানীয়ের বন্দোবস্ত-টা একটা অতিরিক্ত আকর্ষণ ছিল. যেদিন যার বাড়িতে রিহার্সেল হত, তিনিই খাওয়া দাওয়ার ব্যবস্থা করতেন . কিন্তু বাকিরাও কিছু না কিছু একটা হাতে করে নিয়ে আসতেন। আমি যেহেতু একা থাকতাম, আমি বেশিরভাগ সময়েই আমার অনেক স্নেহভাজন-দের এবং অনেক শ্রধ্যেয়া বৌদিদের হাতের চমত্কার রান্না খাওয়ার সৌভাগ্য হয়েছে। সেইসব দিনগুলোর কথা মনে পড়লে নিজেকে ধন্য মনে করি এবং আমার লুসাকার সমস্ত বন্ধুদের আমি খুব মিস করি. বিশেষ করে এই পুজোর সময়.
পৃথিবীর অনেক জায়গায়, যেখানেই বাঙালিরা নিজেদের ডেরা বেঁধেছে, সেখানেই দূর্গা পুজো খুব ধুম ধাম করে করা হয়. এবং সব জায়গাতেই দেখবেন নাচ, গান এবং নাটকের বন্দোবস্ত করা হয়. কারা করে? কে সেই সব মানুষ, যারা অগ্রবর্তী হয়ে আমাদের সবাইকে একত্রিত করে একটা চমত্কার সময় আমাদের সবাইকে উপহার দেয়. প্রত্যেক জায়গাতেই দেখবেন কেউ না কেউ ঠিক একজন থাকেন, যারা আমাদের বাঙালিদের এই দূর্গা পুজোর পরম্পরাটাকে ধরে রাখার ব্যাপারে অগ্রগনি হয়েছেন । পৃথিবীর অন্য জায়গায় কারা আছেন জানি না, কিন্তু লুসাকাতে আছেন আমাদের দেবাশিষ-দা। দেবাশিষ ভট্টাচার্য। ওনাকে জিগ্গেস না করে একটা পাবলিক প্লাটফর্ম-এ ওনার নাম নিলাম. উনি নিশ্চই ক্ষমা করে দেবেন। কিন্তু লুসাকার দূর্গা পুজোর বিষয় আলোচনা করার সময় আমি যদি দেবাশিষ- দার কথা উল্লেখ না করি, তাহলেও অন্যায় হবে. .
দেবাশিষ-দা হচ্ছেন একটা লাইভ ওয়ার। যে কোনো একটা অনুষ্ঠান একা কাঁধে করে নামিয়ে দিতেন। উনি সবাই কে যার যার কাজ বুঝিয়ে দিতেন এবং অত্যন্ত সততার সঙ্গে বকাবকি করে কাজ গুলো যাতে হয় সেই ব্যবস্থা করতেন। উনি যে ভাবে কাজ ডেলিগেট করতেন, সেটা ছিল একটা শেখার মত ব্যাপার। এটা ছিল ওনার ম্যানেজারিয়াল ক্ষমতার দিকটা। এটা তো কিছুই নয়. গান এবং নাটকের চর্চা এবং নাটক লেখার যে অনবদ্য পারদর্শিতা উনি আমাদের দেখিয়েছেন, সেটা কেবল একজন খুব উঁচু দরের শিল্পীর কাছ থেকেই আশা করা যায়. কথায় , গল্পে, হাসি ঠাট্টায়, মজায় মস্করায়, দেবাশিষ-দা আমাদের সবাইকে মাতিয়ে রাখেন।
এই বছর পুজতেও নিশ্চই দেবাসিশ দা আবার মেতেছেন পুজো নিয়ে। আমার মত অনেকেই লুসাকাতে নেই. আবার অনেক নতুন নতুন মুখ-ও এসেছেন। সবাই আনন্দ করুন। অনেকেই নিশ্চই গান আর নাটক করছেন। আমি থাকলে আমিও নিশ্চই কিছু না কিছু করতাম। আমি ওখানে নেই. কলকাতাতেও নেই. তাই টিভি দেখছি।
সময়ের সঙ্গে মনের কোনায় জমে থাকা অনেক কিছুই মিলিয়ে যায়. কিন্তু দূর্গা পুজো আসার সঙ্গে সঙ্গে ফিরে আসে লুসাকার স্মৃতী। আর তার সঙ্গে মনে পরে আমার সমস্ত বাঙালি বন্ধুদের সঙ্গে কাটান সময় গুলোর কথা, বিশেষ করে দেবাশিষ দা আর ওনার সঙ্গে কাটানো পুজোর কয়েকটা দিন- নাচে গানে, আর নাটকে। থ্যান্ক ইউ দেবাশিষ দা. কতগুলো অসাধারণ আনন্দের মুহুর্তের জন্য। থ্যান্ক ইউ লুসাকা। থ্যাঙ্ক ইউ লুসাকার বাঙালি সমাজ। এই মিস ইউ অল এন্ড এই লাভ ইউ অল.